কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৪:৫০ PM
কন্টেন্ট: পাতা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে বিধ্যস্ত অবস্থায় ছিল। স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার দেশের বিধ্বস্ত আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা তথা বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া হয়, যাতে কৃষি ও শিল্প খাতের যুগপৎ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে আমদানি ও রপ্তানি দপ্তর পুনর্গঠন এবং পণ্য আমদানির লাইসেন্সিং ব্যবস্থা সহজীকরণ করে ত্বরিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের আয় ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্ববর্তী সময়ে দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে বিস্তৃত। Defense of India Rules এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ১৯৪০ সালে ভারতবর্ষের আমদা; নি ও রপ্তানি বাণিজ্যের উপর প্রথম নিয়ন্ত্রণের সূচনা করে। মূলত, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কালে নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হলে তদানীনতন ব্রিটিশ সরকার ভারত প্রতিরক্ষা বিধি জারি করে। এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সীমিত নৌ-পরিবহনের প্রেক্ষিতে মাত্র যুদ্ধ প্রচেষ্টার সাথে জড়িত এবং অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীকে পরিবহণের অগ্রাধিকার প্রদান করা। ভারত বিভাগের পর, পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার মারাত্মক অভাব দেখা দিলে, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয় এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ জারি করা হয়। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সালের আমদানি নিয়ন্ত্রণ আইনের মৌলিক কাঠামো ঠিক রেখে প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৪ সালে।
আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলেই পণ্য আমদানি নিয়ন্তণ সংক্রান্ত সব সরকারি নির্দেশাবলি অ্যান্ড বিধি বিধান প্রণীত ও জারি করা হয়ে থাকে। সময়ের পরিবর্তনের পাশে সামঞ্জস্য রেখে এই সব বিধি বিধানও প্রয়োজন বোধে পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। বর্তমানে সাধারণভাবে আমদানি সংক্রান্ত বিধি ও পদ্ধতি যথা : আমদানিকারকগণের শ্রেণি বিন্যাস ও নিবন্ধন, আমদানি খাতে প্রদেয় ফিস এবং আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ের আবেদনের নিষ্পত্তি উপযুক্ত আইনের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রণীত ২'টি আদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এ ২'টি আদেশ হচ্ছে:
(ক) The Importers, Exporters and Indentors (Registration) Orders, 1981; এবং
(খ) The Review, Appeal and Revision Order, 1977.
অনুরূপভাবে উপযুক্ত আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রণীত আমদানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ তফশিল, ১৯৮৮ (Import Trade Control Schedule 1988) এর মাধ্যমে ১লা জুলাই ১৯৮৮ হতে হামোর্নাইজড পদ্ধতির অধীনে পণ্যের নতুন শ্রেণি বিন্যাস প্রবর্তিত হয়। এসব সাধারণভাবে প্রযোজ্য বিধি বিধান ছাড়াও উপরোক্ত আইনের ক্ষমতা বলে সরকার প্রতি ৩ (তিন) বছর অন্তর আমদানি বাণিজ্যসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধি বিধান সম্বলিত আমদানি নীতি আদেশ প্রণয়ন করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে এই আমদানি নীতিই আমদানি নীতি আদেশ হলো বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মুখ্য হাতিয়ার। আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক প্রণীত ও আদেশ হিসাবে জারিকৃত আমদানি নীতি আদেশ আইনগতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের।
বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক আমদানি বাণিজ্যের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশস্য, কৃষি উপাদান, শিল্পের মেশিনারি, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ, জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদার একটি বৃহৎ অংশ বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমেই মেটানো হয়ে থাকে। জাতীয় বাজেটের অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে আমদানি উদ্ভূত কর ও শুল্ক দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের প্রধানতম আয়ের উৎস। দেশের অর্থনীতিতে আমদানি বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অদূর ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য অর্জন, অর্থাৎ রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হ্রাস করা সরকারের ঘোষিত নীতি এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত সাফল্য অর্জিত হলেও সংগত কারণেই বিগত বছর সমূহে মোট আমদানি কলেবর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বৃদ্ধি পাবে। তবে এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছর সমূহে আমদানির বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী বছর সমূহে বার্ষিক আমদানির মধ্যে ভোগ্যপণ্য এবং তৈরি দ্রব্যাদির প্রাধান্য ছিল। সাম্প্রতিককালে এই প্রাধান্য ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং তুলনামূলকভাবে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আমদানির হার ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানি প্রতিকল্প শিল্পের ওপর প্রদত্ত অগ্রাধিকারের ফলে এরূপ আমদানির হার ও পরিমাণ যে আরও বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারায় কৌশলগত পরিবর্তন ও বিন্যাস করা হয়েছে। এ সময়কালে যে দৃশ্যমান নীতি পরিবর্তন ঘটে তা হলো মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগতভাবে উত্তরণ। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমদানি ও রপ্তানি খাতকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রূপকল্প (Vision):
বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ, কার্যকরী ও উন্নয়নমুখী করা।
অভিলক্ষ্য (Mission):
বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে স্বচ্ছ, কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা, যাতে পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ সকল সেবা সহজ, দ্রুততর এবং ব্যবহারবান্ধব হয় এবং এর মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কার্যাবলি
আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কার্যাবলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে প্রদত্ত হলো :